শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসেবে চাঁদের মাটি স্পর্শ করল জাপান। শুক্রবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে মুন স্নাইপার নামে জাপানি চন্দ্রযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করে।
শনিবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসেবে চন্দ্র অভিযানে সফল হলো জাপান। তবে নভোযানটির সোলার প্যানেলগুলো কাজ করছে না। এ কারণে ব্যাটারি থেকে ‘ব্যাকআপ’ শক্তি নিয়ে এগোতে হচ্ছে স্লিমকে।
চাঁদের এই অঞ্চলটি বর্তমানে সূর্যালোক পাচ্ছে, শিওলি কার্টারের অবস্থান সেখানে। চলতি মাসের শেষের দিকে অবশ্য এই অঞ্চলটি আড়ালে চলে যবে।
জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাপানি সংস্থাটি বলছে, চাঁদের পাহাড়ি এলাকায় গবেষণা কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে মুন স্নাইপারের ল্যান্ডার প্রযুক্তি প্র্যোজণিয় টোল হয়ে উঠবে। চাঁদের এই এলাকায় জীবনধারনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি ও পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই ল্যান্ডার তার লক্ষ্য অর্জন করছে কিনা, তা যাচাই করতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগবে।
এ নিয়ে জাপান দ্বিতীয়বার চাঁদের মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করছে। এর আগের চেষ্টার সময় অবতরণ করতে গিয়ে মহাকাশযানটি ভেঙে পড়েছিল। এ মাসে আমেরিকান একটি প্রাইভেট কোম্পানিও চাঁদের পৃষ্ঠে নামতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তবে গবেষকরা বলছেন, স্লিম চাঁদের পৃষ্ঠ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করবে না বরং বৈজ্ঞানিক ক্যামেরা ব্যবহার করে গর্তের আশেপাশের পাথর নিয়ে গবেষণা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে অবতরনের জন্য চাঁদের বুকের একটি গর্ত সংলগ্ন এলাকাকে মহাকাশযান নামানোর আদর্শ জায়গা বলে বেছে নিয়েছিল জাক্সা। এই গর্তটির নাম ‘শিওলি গহ্বর’। পৃথিবী থেকে চাঁদের সবচেয়ে কাছের এই অংশের ১০০ মিটারের মধ্যে স্লিমকে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যানটি নামার আগে দেখে নেওয়া হয়েছিল কোথাও কোনো বাধা রয়েছে কিনা। ৫০ মিটার দূর থেকে সেটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। সেই মতো সংকেত পাওয়ার পরেই চাঁদের বুকে নামে চন্দ্রযানটি।
উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের চন্দ্রযান চাঁদের বুকে সফলভাবে অবতরণ করেছিল। সর্বশেষ গত বছরের আগষ্টে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেছিল ভারতীয় চন্দ্রযান-৩।